ফেব্রুয়ারী 4, 2023

Disha Shakti News

New Hopes New Visions

করোনা কাঁটা হিলি সীমান্তে

নিজস্ব সংবাদদাতা : এবার করোনার প্রভাব পড়ল ভারত-বাংলাদেশের বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে। কারণ, চলতি বছরে হিলি সীমান্তবর্তী উঁচা গোবিন্দপুরের দুর্গাপুজো হবে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ফলে কোনওভাবেই তাতে শামিল হতে পারবেন না প্রতিবেশী দেশের বাসিন্দারা। দু’দেশের একসঙ্গে পুজো উদযাপনও সম্ভব হবে না এবার। যার জেরে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ দুই বাংলার। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উঁচা গোবিন্দপুর গ্রামটি রয়েছে কাঁটাতারের ওপারে। প্রতিবছর সেখানেই সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় দুর্গাপুজো। গ্রামে বসবাসকারী ভারতীয় হিন্দুদের পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের ৫০টি হিন্দু এবং ৬০টি মুসলিম পরিবারও আনন্দে নির্দিধায় মেতে ওঠে ওই পুজোয়। কারণ, ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য দুইদেশের ওই দুই গ্রামের মানুষের মেলামেশায় নেই কোনও কড়াকড়ি। তাই গোবিন্দপুরের দুর্গাপুজোর প্রধান দর্শনার্থী ওপার বাংলার মানুষ। তবে চলতি বছরে ৬৭ বছরে পদার্পণ করা উঁচা গোবিন্দপুরের পুজো হবে নমো নমো করে। কারণ, করোনা। রাশ টানা হবে ভিড়েও। ফলে ওপার বাংলার মানুষ আদৌ শামিল হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এবিষয়ে পুজো উদ্যোক্তা নৃপেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “পুজোর আয়োজন হচ্ছে। তবে বেশি মানুষের জমায়েত করতে দেওয়া হবে না এবার। দুই দেশের ২ গ্রামের মেলবন্ধনে প্রতিবছর যে মেলা হত, সেটিও হবে না এবছর।” অন্যদিকে, বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা মহন্মদ রিপন বলেন, “আমরা অন্য সম্প্রদায়ের, অন্যদেশের নাগরিক হলেও পুজোর কটা দিন আমাদের যাতায়াতে তেমন কড়াকড়ি থাকে না। ৫ দিন আমরা পুজোয় সম্পূর্ণভাবে শামিল থাকি। কিন্ত এবার মনে হচ্ছে তা হবে না।”
প্রসঙ্গত, দেশ ভাগ হবার পর হিলির এই গোবিন্দপুর গ্রামটি ভারতীয় ভুখণ্ডে যুক্ত হয়। অত্যাচার ও নানা প্রশাসনিক বাধা টপকে ভারতীয় গ্রামের তকমা পেলেও বন্দি দশা কাটেনি। জিরো লাইন থেকে কাঁটাতারের ওপারে ১৫০ মিটার এলাকাটি ভারতের। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নিদিষ্ট সময়ে খোলা হয় গেট। ফলে ভারতীয় হয়েও দেশের মূল ভূখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না এই গ্রামের বাসিন্দারা। তাই নিজেদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে ১৯৫৩ সালে এই পুজোর সূচনা করা হয়। আগে দু’দেশের জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী প্যাণ্ডেল তৈরি করে হতো পুজো। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কথায় জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২০ মিটার ভারতীয় ভূখণ্ডে সরিয়ে এনে গোবিন্দপুরের শুরু হয় দুর্গোৎসব। এলাকাবাসীরাই চাঁদা তুলে এই পুজো করেন। কোনও জাঁকজমক নেই এখানে। টিনের বেড়া দেওয়া স্থায়ী চালা ঘরে গ্রামের বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই পুজো হয়ে ওঠে দুই বাংলার মিলনক্ষেত্র। পুজোকে কেন্দ্র করে গোবিন্দপুরে বসে বিরাট মেলা। সীমান্তের এই অখ্যাত গ্রামের মানুষগুলো নিজেদের সামর্থ্য মতো পুজার আয়োজন করেন শুধু নিজেদের অস্ত্বিত্ব টিকিয়ে রাখতেই।

Share this News
error: Content is protected !!