মে 26, 2022

Disha Shakti News

New Hopes New Visions

কুণালের ফোন থেকেই সারদা কর্তার সঙ্গে কথা বলতেন মমতা?

নিজস্ব সংবাদদাতা : সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি একটি আবেদন করেছে। তাতে রাজীব কুমারকে ফের জেরা করার প্রয়োজনীয়তা যেমন জানিয়েছে, তেমনই দীর্ঘ সেই আবেদনে একাধিক বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছে। সিবিআইয়ের আবেদনের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য জানান , ‘সাত বছর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের অফিসারদের জেরার মুখে তৃণমূলের তত্কালীন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষ জানিয়েছিলেন, সারদা গ্রুপের প্রমোটার সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। কুণালের ফোন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে কথা বলতেন। সুদীপ্ত সেনের দুটি নম্বরের কল রেকর্ড থেকে জানা গিয়েছে, এক বছরে কুণাল তার একটি নম্বরে ২৯৮ বার এবং অন্য ফোন নম্বরটিতে ৯ বার ফোন করেছিলেন। সারদা গ্রুপের কর্মী সফিকুর রহমান জেরায় জানিয়েছেন, কুণাল সুদীপ্তকে ফোন করে বিভিন্ন পুজো কমিটিতে চাঁদা দেওয়ার কথা বলতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিধায়ক নির্বাচনে প্রার্থী হন সেই সময়ে ভবানীপুরের সমস্ত পুজো কমিটিকে চাঁদা দিতে সুদীপ্তকে বাধ্য করেছিলেন কুণাল।’ তৃণমূলের অস্বস্তির এখানেই শেষ নয়, সিবিআই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে ‘তারা’ চ্যানেলের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ব্যবহৃত হয়েছিল । অনুমান করা হয় যে ত্রাণ তহবিল থেকে মোট ৬.২১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল।একমাস দুমাস নয়, টানা ২৩ মাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত তৃণমূল সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে ‘তারা ‘-র কর্মচারীদের। তৃণমূলের সাপ্তাহিক মুখপত্র জাগো বাংলার মাধ্যমে সারদা সহ বিভিন্ন চিটফান্ড সংস্থা তথা রোজভ্যালি, অ্যাঞ্জেল, পৈলান, টাওয়ার গ্রুপকে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি বিক্রি করা হয়েছে। তার মধ্যস্থতা করেছে সরকারের উচ্চ পদে থাকা লোকজন। একুশের নির্বাচনের আগে ফের সারদা মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করতে শুরু করেছে তৃণমূল। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক বার বলেছেন, এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু রাজ্য বিজেপি নেতাদের পাল্টা বক্তব্য, এ কথা বললেই কি চিটফান্ডের টাকা লুঠ করার অভিযোগ লঘু হয়ে যায়? অন্যদিকে সুদীপ্ত সেন বয়ান দিয়েছেন , ” আমি পালাতে চাইনি। আমি ফেরার আসামী নই। আমি যা করেছি সব মুকুল রায় আর তাঁর দুই সহযোগীর কথায়। আমাকে বলা হয়েছিল ঐরকম একটি চিঠি লিখে কলকাতা থেকে কয়েকটা দিন দূরে থাকতে। আমি সেটা মেনে ভুল করেছি। পরে বুঝেছি আমাকে ফাঁদে ফেলা হল। মুকুল রায় সারদার সাম্রাজ্য আলকেমিস্টের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। সেই সঙ্গে দুএকজনের ক্ষতি করতে। আমি সেসময় আমার সংস্থার সিনিয়রদের সঙ্গে কথা না বলে ওঁকে বিশ্বাস করে এতবড় বিপদে পড়লাম।”সুদীপ্ত এই চিঠি লিখেছেন রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, সিবিআই ডিরেক্টর এবং সি এম এম কলকাতাকে। এর মধ্যে সি এম এম এজলাস থেকে চিঠির সার্টিফায়েড কপিটি তুলে নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি তুলেছেন প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ।

Report by নিজস্ব সংবাদদাতা
Reported on – 29/12/2020

Share this News
error: Content is protected !!