মে 20, 2022

Disha Shakti News

New Hopes New Visions

চলে গেলেন ফেলুদা, প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় । আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। করোনা থেকে সুস্থ হলেও ক্রমেই কোমর্বিডিটির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিক চলে যায়। প্রায় ৪০ দিন চেষ্টা করার পর হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিত্সকরা। গত ২৪ ঘণ্টার শারীরিক অবস্থার সামান্যতমও উন্নতি হয়নি লক্ষ করা যায়নি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। চিকিত্সকরা বলেই দিয়েছিলেন , আলৌকিক কিছু যদি ঘটে, তাহলে হয়তো বিপদ কাটবে প্রবীণ অভিনেতার। প্রায় ৪০ দিনের লড়াই কোনও কাজে আসল না বলে মত তাঁদের। ১০০ শতাংশ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল অভিনেতাকে । চিকিৎসায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। মাল্টি অর্গান ফেলিওর হতে শুরু করে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বাবার শারীরিক অবস্থার কথা শুনে মেয়ে পৌলোমী কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন , শনিবারই জানিয়েছিলেন ‘বাবা একদম ভালো নেই ‘। পরিস্থিতি অন্তত সঙ্কটজনক হচ্ছে , আগাম সতর্ক করে পরিবারকে জানিয়েও দিয়েছিলেন বেলভিউর চিকিৎসকরা। বুধবার বর্ষীয়ান অভিনেতার ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছিল। সফলভাবেই তা সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবারই আবার তাঁর প্রথম পর্যায়ের প্লাজমাফেরেসিস সম্পন্ন হয়। আশা করা হয়েছিল প্লাজমাফেরেসিসের পর অভিনেতার আচ্ছন্নভাব ও অসংলগ্নতা অনেকটাই কেটে যাবে। কিন্তু শুক্রবার তার কিছুই হয়নি। উলটে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। ডা. কর জানান, এর আগে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চেতনাস্তর ৯ থেকে ১০-এর মধ্যে ছিল। তা পাঁচ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এই স্তর তিনে পৌঁছে গেলে ব্রেন ডেথ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অভিনেতার কিডনির অবস্থাও খুবই খারাপ ছিল । কেন এমনটা হল, সেই সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে ডা. অরিন্দম করের কথায়, চিকিত্সক টিমের পক্ষ থেকে ‘বেস্ট পসিবল এফোর্ট’ দেওয়া হয়েছিল।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি। অভিনেতা হিসেবে তিনি কিংবদন্তি, তবে আবৃত্তি শিল্পি হিসেবেও তাঁর নাম অত্যন্ত সম্ভ্রমের সাথেই উচ্চারিত হয়। তিনি কবি এবং অনুবাদকও। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্‍ রায়ের ৩৪টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতে অভিনয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম সত্যজিত্‍ রায়ের পরিচালনায় অপুর সংসার ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা, এবং টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। অভিনয় ছাড়া তিনি নাটক ও কবিতা লিখেছেন, নাটক পরিচালনা করেছেন। তিনি একজন খুব উচ্চমানের আবৃত্তিকারও বটে।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতরে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেলুদা। সেই সোনার কেল্লা – ফাঁকা করে চির বিদায় নিলেন সুজন সৌমিত্র।

Share this News
error: Content is protected !!