ফেব্রুয়ারী 4, 2023

Disha Shakti News

New Hopes New Visions

বাংলার সংস্কৃতি জগতে খসে গেলো একের পর এক ত ারা

নিজস্ব সংবাদদাতা : অভিশপ্ত ২০২০। কেড়ে নিয়েছে শিল্পী – সাহিত্যিক – বিনোদন জগৎ থেকে একের পর এক দিক্পালকে । এক নজরে বছরের শেষ দিনে সেই তালিকা।

অমলাশঙ্কর— ঘুমের মধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন প্রবাদপ্রতিম নৃত্যশিল্পী। অভিনয় করেছিলেন কল্পনা (১৯৪৮) ছবিতে। ছবিটি রচনা, সহ-প্রযোজনা, পরিচালনা করেছিলেন স্বামী উদয় শঙ্কর। উমার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমলা। ২০১১ সালে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কার তুলে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বিজয়া মুখোপাধ্যায়— ৮৩ বছর বয়সে চলে গিয়েছেন কবি বিজয়া মুখোপাধ্যায়। সংস্কৃত ভাষায় দখল ছিল অসামান্য। কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মহাভারতের কথা’ লেখার সময়ে তাঁর কাছেই সংস্কৃতের পাঠ নিয়েছিলেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘আমার প্রভুর জন্য’ (১৯৬৭), ‘যদি শত্রুহীন’ (১৯৭১), ‘ভেঙে যায় অনন্ত বাদাম’ (১৯৭৭), ‘উড়ন্ত নামাবলী’ (১৯৭৯), ‘দাঁড়াও তর্জনী’ (১৯৮৮)। ‘বিভাষা’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘদিন।

মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়— ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন কথা সাহিত্যিক মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। মানবেন্দ্রবাবু অসংখ্য বিখ্যাত বিদেশি সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ করে সেগুলি পৌঁছে দিয়েছেন বাঙালি পাঠকদের দরবারে। অনুবাদ করেছেন বহু নাটকও। শিশুসাহিত্যে তাঁর অনুবাদ করা জুল ভার্নের গল্প বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। বিভিন্ন দেশের সাহিত্যের মাধ্যমে নানা সংস্কৃতিকে যেন লোকচক্ষুর সামনে মেলে ধরেছিলেন তিনি। ল্যাটিন সাহিত্যেক গার্সিয়া মার্কেজের ম্যাজিক রিয়্যালিজমের সঙ্গেও বাঙালির পরিচয় মানববাবুর হাত ধরে। অধ্যাপনার শুরু মায়ানমারের ইয়াঙ্গনে। পরবর্তীকালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

শর্বরী দত্ত— এখনও পর্যন্ত তাঁর মতো পুরুষদের ফ্যাশন নিয়ে কেউ কাজ করেননি। বলা যায়, ছেলেদের ফ্যাশনের ট্রেন্ড সেট করে দিয়েছেন তিনি। ফ্যাশন দুনিয়ায় নীল, সবুজ, কালো, হলুদ রঙিন ধুতির চল হয় তাঁর হাত ধরেই। ১৯৯৬ সালের তাঁর সেই সৃষ্টির পর থেকেই বদলে যায় ফ্যাশনের সংজ্ঞা। তাঁর ডিজাইনের পোশাকে সাজেননি ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অভিনেতা বোধহয় হাতে গোনা।

প্রদীপ ঘোষ— চলে গেছেন বিশিষ্টি আবৃত্তিকার, বাচিক শিল্পী প্রদীপ ঘোষ। বাচিক শিল্পের জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগে যুগ্ম তথ্য অধিকর্তা হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে ‘কাজী সব্যসাচী’ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়— বাংলা চলচ্চিত্রে এক যুগের অবসান। টালিগঞ্জের মহীরুহ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর নেই। ছয় দশকের দীর্ঘ তাঁর চলচ্চিত্র জীবন। অভিনয় ছিল তাঁর জীবনের অক্সিজেন, বলতেন, ‘আমি অভিনয় করছি বলেই তো সুস্থ আছি।’

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত— আরও নিঃস্ব হয়েছে বাংলা সংস্কৃতিজগত, শূন্য বাংলা কবিতার বাহুডোর। রবীন্দ্র অনুসারী কাব্যরুচি থেকে বাংলা কবিতাকে এক পৃথক খাতে বইয়ে দেওয়ার শুরু পঞ্চাশের দশকে। এই সময়ে যাঁরা নিজস্ব ভাষাভঙ্গি নিয়ে লিখতে এসেছিলেন অলোকরঞ্জন ছিলেন তাঁদের অগ্রপথিক, কবি শঙ্খ ঘোষের পরমবন্ধু। জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছে ২০ টির ওপর কাব্যগ্রন্থ। সেই কাব্য অভিপ্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে কতশত নবীন শ্রীজাতকিশোরকে কবিতার কাছে আসতে।

মনু মুখোপাধ্যায়— বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ছয়ের দশকে সুজাতা সদন, মিনার্ভা, বিশ্বনাথ মহল, রং মহল, স্টার থিয়েটারেও কাজ করেছেন তিনি। ক্ষুধা নাটকে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অভিনয় করেছিলেন মনু মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকেই অভিনয় জগতে পরিচিতি মেলে। একইসঙ্গে তবলা বাদক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি ছিল তাঁর। সুদামা দ্যা হাফ ম্যান ছবিতে প্রথম অভিনয়। তাঁর প্রথম ছবি মৃণাল সেনের নীল আকাশের নীচে। উত্তরায়ণ, অশনি সংকেত, জয় বাবা ফেলুনাথ, দাদার কীর্তি, সাহেব, গণশত্রু, পাতালঘর, বাকিটা ব্যক্তিগত, গয়নার বাক্সর ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

সুধীর চক্রবর্তী— চলে গেছেন লোকসংস্কৃতি গবেষক, প্রাবন্ধিক সুধীর চক্রবর্তী। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বাংলার লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণায় তাঁর অবদান বিপুল। কর্তাভজা, বলাহাড়ি, সাহেবধনি প্রভৃতি উপধর্ম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও তাদের গান নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু আকর গ্রন্থ। তাঁর ‘ব্রাত্য লোকায়ত লালন’ গ্রন্থটিকে লালন ফকির সংক্রান্ত চর্চার একটি মাইলফলক বলে গণ্য করা হয়। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন লোকসম্প্রদায়ের গান। সম্পাদনা করে গ্রন্থের আকৃতি দিয়েছেন তাদের। লোকধর্ম বিষয়ে তাঁর গবেষণার অভিজ্ঞতাকে লিপিবিদ্ধ করেছেন ‘গভীর নির্জন পথে’ গ্রন্থে। রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং বাংলা আধুনিক গান নিয়েও তিনি লিখেছেন ‘নির্জন এককের গান: রবীন্দ্রসঙ্গীত’ বা ‘বাংলা গানের চার দিগন্ত’-র মতো বই।

Report by rahul gupto
Reported on – 31/12/2020

Share this News
error: Content is protected !!