জানুয়ারী 31, 2023

Disha Shakti News

New Hopes New Visions

রাজ আমলের নিয়ম মেনে আজও বড়দেবীর পুজো কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ আমলে শুরু হওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো বড়দেবীর পুজো নিয়ম-নিষ্ঠা সহকারে হয়ে আসছে কোচবিহারে । গোটা বাংলা এখন দুর্গাপুজোর আয়োজনে ব্যস্ত ৷ কোচবিহারের দেবীবাড়ি মন্দিরে বড়দেবীর পুজো নিয়ে জোর ব্যস্ততা চলছে । কথিত আছে, ” কোচ ” রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা বিশ্বসিংহ ৷ শৈশবে তাঁর তিন ভাই শিষ্য সিংহ, কুমার চন্দন ও কুমার মদনসহ খেলার সাথীদের নিয়ে অসমের চিকনা নামে গভীর জঙ্গলে দেবী দুর্গাকে কল্পনা করে পুজো করছিলেন । সেসময় তাঁর ভাই শিষ্য সিংহ তাঁদের খেলার এক সাথীকে ছাগলের মতো করে আটকে রাখেন ৷ মহারাজা বিশ্বসিংহ কুশ দিয়ে আঘাত করা মাত্রই অলৌকিক ক্ষমতায় সেই বন্ধুর মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে যায় । পরবর্তীতে দেবী দুর্গার আশীর্বাদে বিশ্বসিংহ চিকনার অধিপতি তুরকা কোতয়ালকে পরাজিত ও নিহত করে কোচবিহারের সিংহাসনে আসীন হন । এখানে ময়না গাছের ডালকে দেবী দুর্গারূপে কল্পনা করে পুজো করা হয়েছিল বলে আজও শ্রাবন মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে ময়না গাছের ডাল পুজো করে সেই ময়না কাঠেই দেবীপ্রতিমা গড়া হয় ।পরবর্তীতে কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নাদেশে দশভুজা দুর্গামূর্তির পুজো শুরু করেন । ইতিহাসবিদদের মতে, মহারাজা নরনারায়ণের ভাই সেনাপতি চিলারায় নিজের বীরত্বে গর্বিত হয়ে কোচবিহারের সিংহাসনে বসার লোভে মহারাজা নরনারায়ণকে হত্যা করতে রাজসভায় গেছিলেন । রাজসভায় উপস্থিত হতেই চিলারায় দেখতে পান, স্বয়ং ভগবতী দুর্গা দশহাত দিয়ে ঘিরে নরনারায়ণকে রক্ষা করছেন । এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে চিলারায় ভয় ও লজ্জায় দাদার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন । কিন্তু এই ঘটনায় মহারাজা নরনারায়ণের মনে ভিন্ন ভাবের সৃষ্টি হয় । তিনি ভাবলেন দেবী ভগবতী ভাইকে দর্শন দিল, অথচ আমি তার দেখা পেলাম না । এই চিন্তায় তিনি ভেঙে পড়েন । দেবী ভগবতী মহারাজাকে স্বপ্নাদেশ দেন । এরপর থেকেই প্রতিমা গড়ে পুজোর কাজ শুরু হয় । দেবী এখানে রক্তবর্ণা । অসুরের গায়ের রং সবুজ । ডানদিকে থাকে সিংহ, বামদিকে চিতাবাঘ । দু’পাশে থাকে জয়া ও বিজয়া । কোচবিহারের গবেষক দেবব্রত চাকী বলেন, ” মহারাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর শুরু করেছিলেন । দেবী এখানে রক্তবর্ণা । শরৎকালে গোটা বাংলা যখন দেবী দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে, তখন কোচবিহারে বড়দেবীর পুজো হয় । বংশপরম্পরায় এই দেবী প্রতিমা তৈরি করে আসছেন চিত্রকর পরিবার । বর্তমানে প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন প্রভাত চিত্রকর । তিনি বলেন, দেবী দুর্গার চেয়ে এই মূর্তি আলাদা । মূর্তি তৈরির আগে চামটা গ্রামের চামটা দেবীর পুজো করে বড়দেবী তৈরির জন্য মাটি নিয়ে আসা হয় । রাজা নেই । তবে প্রথা অনুযায়ী এখনও শ্রাবণ মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে গুঞ্জবাড়ি ডাঙরাই মন্দিরে ময়না গাছের ডাল কেটে এনে যূপছেদন পুজো করা হয় । এরপর ওই রাতেই শোভাযাত্রা সহকারে ওই যূপ নিয়ে আসা হয় কোচবিহার মদনমোহন বাড়িতে । সেখানে একমাস পুজো হওয়ার পর সেই ময়নাকাঠ নিয়ে যাওয়া হয় দেবীবাড়ি মন্দিরে । সেখানে বিশেষ পুজোর পর সেই ময়নাকাঠেই তৈরি হয় বড়দেবী । এই দুমাস ধরে প্রতিদিন পুজো চলবে । মহালয়ার দিন হয় চক্ষুদান । তবে এবারে আশ্বিন মাস মলমাস থাকায় ওই একমাস মন্দির বন্ধ । এরপর যথাসময়ে পুজো অনুষ্ঠিত হবে । পুজোতে বলিপ্রথা রয়েছে ।

Share this News
error: Content is protected !!